আর নয় তেলাপোকার রাজত্ব (পর্ব ০১)

আয়মান বুদ্ধিমান ছেলে হলেও রাতে যখন বাসার সবাই ঘুমিয়ে পরে তখন তার বুদ্ধি লোপ পায়। বেচারা ছোট্ট একটা ছেলে তেলাপোকার ভয়ে অস্থির থাকে! রাতে বাসার বাতি নিভলেই শুরু হয় তেলাপোলার রাজত্ব। তেলাপোকার রাজ্যে নিজেকে কেমন যেন তুচ্ছ মনে হয় আয়মানের। এই রাজ্যের গর্বিত নাগরিকেরা ঘর অন্ধকার হওয়া মাত্র দুই পাখার উড়োজাহাজের পাইলটে পরিণত হয়। কখনও তারা ল্যান্ড করে আয়মানের চোখে-মুখে আবার কখনও গায়ে। ভয়ে-ঘেন্নায় আয়মান জীবনের কোনো মানে খুঁজে পায় না!

বেশ কিছুদিন আগে আয়মান এই রাজ্য আবিষ্কার করে। সেদিন সে একটু বেশিই কোকাকোলা খেয়ে ফেলায় মাঝরাতে তার ঘুম ভেঙ্গে যায়। অন্ধকার ঘরে ওয়াশরুমে যাওয়ার জন্য বিছানা থেকে নামতেই সে টের পায় কিছু একটা তার পায়ের নিচে পিষ্ট হয়ে গেছে! সেই সাথে কেমন একটা আঠালো পদার্থের ছোঁয়া অনুভব করলো সে। এমন সময় ঘাড়ের উপর উড়ে এসে পরল কোনো এক ঘিনঘিনে প্রাণী। ভয়ে আয়মানের আত্না খাঁচা ছেড়ে যায় যায় অবস্থা! কোনো রকমে ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে এসে শুয়ে পরে। সে দেখেছে তাদের ফ্লোরে অসংখ্য ছোট-বড় তেলাপোকা হাঁটাচলা করছে। তাদের গতিবিধিতে অন্যরকম এক ব্যস্ততা। সেই রাতে আয়মানের আর ঘুম হয়নি। এরপর থেকে প্রায়ই রাত হলে আয়মান তটস্থ থাকে।

আয়মানের মত অবস্থা যেন আপনাদের না হয় তাই আজকের এই ব্লগ। এখানে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কিছু ব্যবহার্য জিনিস দিয়ে কীভাবে তেলাপোকা দূর করা যায় তা উল্লেখ করা হল।

কফি পদ্ধতি

কফি তেলাপোকার খুবই প্রিয় খাবার। এই কফি ব্যবহার করে তেলাপোকার ভবলীলা সাঙ্গ করার একটা পদ্ধতি হচ্ছে পানিতে কফি মিশিয়ে সেই পানিতে তেলাপোকাকে চুবিয়ে রাখা। এর জন্য যা যা প্রয়োজন তা হলো- পানি, কফি, একটি গামলা এবং পেট্রোলিয়াম জেলি। গামলায় পানি নিয়ে তাতে কফি মিশিয়ে রেখে দিতে হবে। সাধারণত তেলাপোকা পানিতে ৪০ মিনিট নিশ্বাস নিতে পারে। কিন্তু যদি পুরোপুরি ডুবে থাকে তাহলে ৩০ মিনিটের মত বেঁচে থাকবে। যদি দেখা যায় তেলাপোকা গামলা থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে তাহলে গামলার ভেতরের দিকে পানির উপরের অংশটুকুতে অল্প একটু পেট্রোলিয়াম জেলি মাখিয়ে দিতে হবে যেন তেলাপোকা গামলা থেকে বের হতে না পারে। গামলা ঘরের এমন কোণে রাখতে হবে যেখানে তেলাপোকা  বেশি চলাফেরা করে। এভাবে যতদিন চেলাপোকার উৎপাত থাকবে ততদিন কফি-গামলা পদ্ধতি চালিয়ে যেতে হবে।

লেবুর রস পদ্ধতি

লেবুর রস ঘর-বাড়ি পরিষ্কারের ক্ষেত্রে প্রায়ই ব্যবহার করা হয়। অনেক প্রফেশনাল ক্লিনাররাও লেবুর রস ক্লিনিং এর জন্য ব্যবহার করে। তৈলাক্ত পদার্থ দূর করতেও এই লেবুর রসের জুড়ি মেলা ভার। বাজারে একধরণের  লেবুর রস কিনতে পাওয়া যায় যা শুধুমাত্র ক্লিনিং এর জন্যই ব্যবহার হয়। অনেকেই জানে না যে এই লেবুর রস দিয়ে সহজেই তেলাপোকা দূর করা যায়। যা করতে হবে তা হলোঃ পানির সাথে লেবুর রস মিশিয়ে ঘরের  যেখানে তেলাপোকা বেশি থাকে সেখানে স্প্রে করে দিতে হবে। এছাড়াও একটি গামলায় পানি নিয়ে তাতে লেবুর রস মিশিয়ে পুরো বাড়ি মুছে ফেলতে পারেন। খেয়াল রাখতে হবে যেন লেবুর রস অল্প না হয়।

এ পদ্ধতি গুলো যেমন আয়মানের জন্য স্বস্থির নিঃশ্বাসের কারণ তেমনি আপনার জন্যও এটি উপকারী। আগামী পর্বে এমন আরো পদ্ধতি নিয়ে আসছি শুধু আপনাদের জন্যই। সাথেই থাকুন।

Share with Friends:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *