বায়ুদূষণের প্রভাব পড়ে মানসিক স্বাস্থ্যেও

যারা ছোটকালে বায়ুদূষণ এলাকায় বসবাস করে, বড় হলে তাদের মানসিক বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায় বলে এ বছর প্রকাশিত একটি গবেষনায় দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। গত ৩০ জানুয়ারি প্রকাশিত ওই গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, দূষিত এলাকায় বড় হলে ডিপ্রেশন বা বিষাদগ্রস্থতার সম্ভাবনা ৪ গুণ বৃদ্ধি পায়। এর আগে করা অনেকগুলো গবেষণাতে অ্যাজমা, ডিমেনশিয়া (স্মৃতিভ্রংশ) ও বিভিন্ন রকমের ক্যান্সারের সঙ্গেও বায়ুদূষণের সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া গেছে।

গবেষকরা দেখেছেন, লন্ডনের বায়ুদূষণ কবলিত এলাকায় বেড়ে ওঠা কিশোর কিশোরীরা দূষণহীন এলাকায় বেড়ে ওঠাদের তুলনায় বেশি বিষাদগ্রস্থতার শিকার হচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের বিজ্ঞানীদের করা সম্প্রতি (২০ আগষ্ট, ২০১৯) প্রকাশিত আরেকটি গবেষনায় বলা হয়েছে, বাইপোলার ডিসঅর্ডার (দ্বিমুখী আচরণ বৈকল্য), সিজোফ্রেনিয়া (সাইকোলজির ভাষায় যেটিকে ‘মনের ক্যান্সার’ বলা হয়) ও পারসোনালিটি ডিজঅর্ডারের সঙ্গেও বায়ুদূষণের সম্পর্ক আছে।

যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১৫ কোটি মানুষের স্বাস্থ্য বীমা বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন, বায়ুদূষণের সঙ্গে পারসোনালিটি ডিসঅর্ডার ও বড় ধরনের বিষন্নতার সম্পর্ক আছে। বিশেষ করে বাইপোলার ডিসঅর্ডারের সঙ্গে বায়ুদূষণের সম্পর্ক অনেক বেশি।গবেষকরা দেখেছেন, সবচেয়ে কম দূষিত দেশগুলোর তুলনায় বেশি দূষিত দেশগুলোর নাগরিকদের বাইপোলার ডিজঅর্ডার রোগীর সংখ্যা ২৭ শতাংশ বেশি।

ছবি: দ্য ডেইলি স্টার

স্বাস্থ্যবীমায় পাওয়া তথ্য থেকে গবেষকরা দেখছেন, রোগীর পারিবারিক ইতিহাসের পর বাইপোলার ডিজিজের দ্বিতীয় বৃহত্তম কারণ বায়ুদূষণ। বায়ুদূষণের সঙ্গে মানুষের আয়, জনসংখ্যার ঘনত্ব এবং এথনিসিটির সম্পর্ক দেখানো হয়েছে গবেষণায়।
তবে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা ও দূষণের অন্যতম বড় কারণ হিসেবে ট্রাফিক নয়েজকে দায়ি করা হয়েছে, যা মানুষের স্ট্রেস এবং ঘুমের সমস্যারও বড় কারণ।

বায়ুদূষণের কারণে হুমকিতে আছে আমাদের মস্তিষ্কও। বাতাসে ভাসমান অতি ক্ষুদ্র বস্তুকণাগুলো শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে আমাদের মস্তিস্ক পর্য়ন্ত পৌঁছে যেতে পারে এবং আক্ষরিকভাবেই এর ক্ষতি করতে পারে। আবার, বায়ুদূষণের কারণে আমাদের শরীরে জ্বালাপোড়া বেড়ে যায়, সেটিও মস্তিস্কের স্ট্রেসের কারণ হয়ে উঠতে পারে। দূষণ মানুষের ডিএনএ অ্যাকটিভিটিও পরিবর্তন করে দিতে পারে। তবে গবেষকদের একজন হেলেন ফিশার বলেছেন, এগুলো এখনো নিশ্চিত করে বলার সময় আসেনি।

Share with Friends:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *